অন্ধকার থেকে আলোর পথে

অন্ধকার থেকে আলোর পথে

কাজের শেষে একলা বসে কোথাও চা খেতে বেশ ভালো লাগে আমার।তাই প্রতিদিনের মতো রাত আটটার নাগাদ রবীন্দ্র সরোবর এ গেলাম।অইখানে ফেরি করে রং চা এবং আরো অনেক কিছু বিক্রি করে।

প্রেমিক পুরুষেরা বাদামের খোসা ছাড়িয়ে তার বাবু টাকে মুখে পুড়ে দিয়ে বলে,আরে খাও না বাবু!কতো রোগা হয়ে যাচ্ছো।বাদাম খেলে শক্তি হয়।এদিকে আমি চায়ের চুমুকে প্রতিদিন এই দৃশ্য উপভোগ করি।ভালো লাগে!

সিগারেট টা জ্বালিয়ে পাশে প্যাকেট আর লাইটার টা রেখে,সিগারেট এ টান দিয়ে চা তে চুমুক দিলাম।কেমন জানি এক অদ্ভুত ভালো লাগা অনুভব হয়।হঠাৎ পাশ থেকে একটা মেয়ের কন্ঠের আওয়াজ পেয়ে ধ্যান ভাঙ্গলো!

–আপনার কাছে লাইটার হবে?

ঢাকা শহরে এটা নরমাল বিষয় যে মেয়েরা সিগারেট খায়,তবে এই মেয়েকে দেখে তেমন মনে হয়নি প্রথমে।তবে সে যেনো আরো কিছু নেশা করেছে মনে হচ্ছে।চোখ দুটো তামার মতো লাল।ঠিক সন্ধ্যা বেলায় আকাশের লালিমা মেঘের মতো।একটু ইতস্তত বোধ করে বললাম

–হ্যাঁ আছে।
এটা বলার সাথে সাথে মেয়েটা পাশে বসে গেলো।আমি হকচকিয়ে থাকিয়ে রইলাম।হাতের আংগুল এ দুইবার আওয়াজ করে বলে

–কোথায় হারিয়ে গেলেন?লাইটার টা দেন
–কোথাও হারায় নি।এই নেন।

মেয়েটি সিগারেট টা ধরিয়ে যেনো দুনিয়ার সব সুখ একসাথে জড়ো করে নিলো।চোখ মুখে শান্তির আভা লেগে গেছে!এদিকে আমার সিগারেট এর বাড়োটা বেঁজে গেলো।কথা বলা উচিৎ নাকি উঠে যাওয়া দরকার সেটাও বুঝতেছি না।দেশের অবস্থা তেমন ভালো না,তার উপর পাশে এরকম একটা নেশা করা যুবতী।টেনশনে আরেকটা সিগারেট ধরিয়ে বসলাম।

টান দিচ্ছি এমন টাইমে মেয়েটি বকতে শুরু করলোঃ

–জানেন আজকে না সেই ফিলে ছিলাম,ওফ!!
–কিরকম ফিল?আর আপনি কি নেশা করেছেন?(মুখ ফস্কে বলে ফেললাম)
–হ্যাঁ নেশা করেছি।এই কারণে লাইটার হারিয়ে বসলাম।
–আপনি কি সারারাত এখানে থাকবেন নাকি?বাসায় কেউ নেই আপনার?
–বাসায়?হা হা!
–হাসছেন কেনো?(চিন্তা করলাম পাগল নাকি কোনো?)
–সেটা না হয় আরেকদিন শুনবেন।প্রতিদিন আসি আমি এখানে…

আর কিছু বলার আগেই হেঁটে চলে গেলো।হাটার সময় দুলছে। অনেক ছেলে পেলে থাকিয়ে হাসছে,এই জিনিস টা বিরক্ত লাগলো।পিছে পিছে গেলাম,দেখি রিকশা ঠিক করলো ধানমণ্ডি কত নাম্বার জানি বললো।যাক হুশ আছে সেদিকে।

পকেটে হাত দিয়ে দেখলাম এই মেয়ের পাল্লায় আমার লাইটার টাও ফেলে এসেছি,সাথে সিগারেট এর প্যাকেট টাও।ব্যাক করতে ইচ্ছে করছে না,কেমন জানি মেয়েটার মোহ আমাকে তার দিকে নিতে চাচ্ছে।আরো জানার আগ্রহ টা বাড়িয়ে দিচ্ছে।এসব ভাবতে ভাবতে বাড়িতে এলাম।

রাতের খাবার শেষে বারান্দায় রকিং চেয়ারে বসে বই পড়ার অভ্যাস অনেকদিনের।কিন্তু কেন জানি আজ বই পড়তে ইচ্ছে হচ্ছে না।চোখের সামনে খালি মেয়েটা ভাসছে।তার কোমল মায়াবী চেহেরাটা মনে পরছে।রাস্তার ধারের এনার্জি লাইটের আলোই চোখ গুলো কেমন ভালো লেগে গেছে।আর গায়ের শ্যাম কালো রং টা যেনো তার কথা বার বার মনে করিয়ে দিচ্ছে।আর কানে খালি বাজছে,’প্রতিদিন আসি এখানে’!

গতকালের মতো আজকেও একি জায়গায় এসে বসলাম।আজ কেমন জানি কপোত-কপোতীর সংখ্যা বেশি।এক কোণে দেখলাম একটা সিঙ্গেল জোন আছে,ঠুক করে গিয়ে বসে গেলাম।সিগারেট হাতে চা তে চুমুক দিয়ে কালকের মেয়েটার কথা ভাবছিলাম,আজো কি আসবে?চোখ দুটো তামা করে?সিগারেট শেষ হওয়ার আগেই দেখি পাশে কেউ বসছে,মৃদু আলোতে চিনতে পারছি না।

–আপনার কাছে সিগারেট আছে?
–আছে, তবে আপনি কে?
–কাল কথা হলো আজ ভুলে গেলেন!নেশা তো আমি করি,আপনিও?
–কি সব বলছেন?আমার শুধু চা আর সিগারেট এ মোহ!আর কিছুতে না।
–সিগারেট দিবেন একটা?
–এই নেন।

পরম সুখে সিগারেট টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়লো মেয়েটি।কি হচ্ছে,কিসে জড়িয়ে যেতে যাচ্ছি কিচ্ছু বুঝছি না।মেয়েটা হটাৎ বলে উঠলোঃ

–আপনার বাসায় কে কে আছে?
–বাবা মা আর ছোট ভাই।আপনার?
–কেউ নেই!
–ওহ সরি।আসলে এভাবে বলতে চাই নি।
–আরে বেঁচে আছে,টেনশন নিয়েন না।তারা থেকেও আমার কাছে নেই এই আর কি!
–মানে বুঝলাম না?আর আপনি নেশা করেন কেনো?প্রেমের ছ্যাঁকা?

হাসি দিয়ে সিগারেট টা ফুকতে থাকলো।মনে মনে ভাবলাম,পাত্তা দিলো না নাকি অচেনা বলে বলতে চাচ্ছে না?

–সময় হবে আপনার?(মেয়েটি বললো)

থতমত খেয়ে গেলাম।এইটা কেন বললো?হাইজেক করবে না তো?আজকাল এরকম সুন্দরী গুলো ভয়ংকর হয়!
–হ্যাঁ আছি কিছুক্ষণ (আমতা আমতা করে বললাম)

সে বলা শুরু করলো।সেদিন অনেকক্ষন ছিলাম,আর নিশ্চুপ হয়ে শুনছিলাম তার কথা।মেয়েটির নাম নিতু।জন্ম ঢাকাতেই।বাবা বড় বিজনেস ম্যান।আর মা সমাজ সেবক,সাথে আরো ব্যাবসা ও আছে।ছোট বেলা থেকে নিতু বড় হয়েছে রহিমা খালার কাছে।রহিমা খালা তাদের সেখানে অনেক বছর ধরে কাজ করেন….

হঠাৎ থেমে সে আমাকে জিজ্ঞেস করলো

–আচ্ছা তোমার নাম কি?আর আমি তুমি করেই বলি?
–হ্যাঁ তুমি বলতে পারেন।আর আমি অনিম।বিএসসি শেষ হলো,চাকরির আশায় ঘুরছি।আর আপাতত বাবা’র টুকটাক ব্যাবসা গুলো দেখছি।আপনি?
–অনার্স ৩য় বর্ষে। তুমি আমাকে তুমিই বলো।আমার চেয়ে বড় তুমি।আচ্ছা আজকে যাই,আবার দেখা হবে কাল।আসবে কিন্তু অনেক কিছু বলবো তোমায়।
–আচ্ছা!

আজকে নিতুর হাস্য উজ্জ্বল চেহেরা দেখলাম।বেশ মানাই,তবে উঠার পর আজো দুলছে! আমি ভেবেছি আজকে নেশা করে নি।কিন্তু প্রতিবারের মতো আমি আজকেও বোকা বনে গেলাম।আমিও সিগারেট একটা ধরিয়ে বাসার দিকে রওনা দিলাম,রাত অনেক হয়েছে।আম্মার বকা শুনতে হবে আজকে।

বাসায় ঢুকার সাথে সাথে আম্মার ঝাড়ি শুরু।কিরে আজকাল কি তুই প্রেম ট্রেম এ পরছোস নাকি?বাসায় লেইটে আসিস কেন?অবাক দৃষ্টিতে আম্মুর দিকে তাকিয়ে বললাম,মাথা গেছে নাকি?প্রেম করবো কেন?একটু কাজ ছিলো তাই লেইটে আসছি।এইবার ভাত দাও!এই বলে রুমে গেলাম।আম্মু ভাত দিলো খেয়ে আবার রুমে,বেলকনিতে রকিং চেয়ারে হেলান দিয়ে নিতুর কাহিনি টা বুঝার চেষ্টা করলাম।কিন্তু সমীকরণ মিলছে না,বাবা মা’র বাসায় না থাকাতে এতোটাও ইফেক্ট পড়ার কথা না যাতে সে এডিক্ট হয়!

আহমদ ছফার ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’ গল্প টা পড়ছিলাম,অইখানে দুরদানার সাথে নিতুর কিছু মিল পাচ্ছি।তবে অমিল এর সংখ্যা বেশি।

এভাবে কয়েকদিন কেটে গেলো,রোজ নিতুর সাথে দেখা হয় সেই জায়গায়।আড্ডা দি,কথা বার্তা বলি।এই কয়েকদিনে সে আমার উপর এমন আস্থা স্থাপন করেছে যে সব কিছু মন খুলে শেয়ার করে।বুঝতে পারছিলাম এতো দিন মেয়েটা
.
একাকিত্ব তে ভুগতো।কাউকে হয়তো বলার জন্য পেতো না।আমিও তার কথা মন দিয়ে শুনতাম,আর চেষ্টা করতাম নেশা থেকে ফিরিয়ে আনতে,নরমাল জীবন উপহার দিতে।

ছোট বেলা থেকে নিতু রহিমা খালার সাথে থেকেই বড় হয়েছে।বাবা বিজনেস এর কাছে প্রায় বাইরে যেতো।আর মা ও সারাক্ষণ থাকতো না,যখন আসতো তখন নিতু ঘুমে।নিতু তার মা বাবার সাথে খুব কম সময় নাকি লাঞ্চ করেছে,ডিনার টা মাঝে মাঝে হতো একসাথে।কোনো কিছুতে কমতি ছিলো না,কিন্তু অনুভূতি শেয়ার করার মানুষ ছিলো না।তাই রহিমা খালাকে জ্বালাতো।রহিমা খালা ও নিতু কে খুব আগলে রাখতো,নিজের মেয়ের মতো বড় করেছে।

সে একদিন আমাকে বলে,
–জানো অনিম,আব্বু আম্মুর উপর আমার কোনো রাগ বা ক্ষোপ ছিলো না,তারা তো আমার সকল ইচ্ছে পূরণ করতো।শুধু তাদের পাশে কম পেতাম মন খোলে কিছু বলার জন্য।মা প্রতি রাতে বাসায় এসে আমার রুমে যেতো যখন দেখতো ঘুমিয়ে আছি,তখন আলতো করে কপালে চুমু খেতো।অনুভব করতাম।আব্বু ও মাঝে মাঝে করতো।

সেদিন বুঝলাম নিতুর একটাই আক্ষেপ ছিলো সেটা হলো কাউকে পায় নি কিছু বলার জন্য,একাকীতে কাটতো সময়।বন্ধুরাও তাদের মতো, তাই তাদের তেমন কিছু বলতো ও না।তার জীবনে নেশার আবির্ভাব ঘটে কলেজে উঠার পর।

আজকে সন্ধ্যা না হতেই হঠাৎ নিতুর কল।রিসিভ করতেই বললো অনিম একটু দেখা করা দরকার,তাড়াতাড়ি আসো।কল রাখার পর গেলাম প্রতিদিন এর জায়গায়,গিয়ে দেখি নিতু আগে থেকেই বসা।কিন্তু আজকে তাকে অন্যরকম লাগছে।বেশ মায়াবী,মুখের হাসিটাতে আজকে রুক্ষতা নেই,মন থেকে হাসছে।আর চোখ ও আজকে ঘোলাটে নয়।

–সরি নিতু একটু দেরি করে ফেললাম।
–আরে ধুর কোনো সমস্যা নাই,আসছো এটাই অনেক।জানো আজকে আমার মন টা অনেক ভালো।
–কেনো?খুশির সংবাদ কোনো?(আসলেই তার মন ভালো আজকে।মন খুলে হাসতে এই কয়েকদিনে প্রথম দেখলাম)
–আজকে আমি ড্রাগ নি নাই।কোনো প্রকার নেশা করি নাই আজকে।তাইতো মন খুলে আড্ডা দেয়ার জন্য তোমাকে ডাকা।

আমি কিছু বলতে পারি নি,অবাক হয়ে থাকিয়ে আছি।আমার সাথে পরিচয় হওয়ার পর এই প্রথম মনে হয় সে নেশা করি নি।সেদিন তার নেশার জগতে আসার কথা শুনলাম।

কলেজে উঠার আগ থেকে সে বাসায় প্রচুর মুভি আর ওয়েব সিরিজে আসক্ত ছিলো।নেটফ্লিক্স বা আরো ওয়ে তে সারাদিন ডুবে থাকতো মুভি আর সিরিজে।সাইকো থ্রিলার,ড্রাগ রিলেটেড সিরিজ আর মুভি দেখে নিজের মধ্যে ধারণ করার চেষ্টা করতো।কিন্তু সাহস করে নি কখনো।কলেজে ভর্তির পর কিছু মডার্ন ছেলে মেয়েদের সাথে পরিচয়।যাদের কাছে নাকি ড্রাগ নেয়া টা কুল ব্যাপার ছিলো।ব্যাস!কাহিনি শুরু।সিরিজ মুভিতে দেখা আর বাস্তবে সামনে পেয়ে নিজেকে কুল মনে করার জন্য নিতু জড়িয়ে পড়ে এসবে।বাবা মা ও থাকতো না বাসায়,এই সুযোগে পুরা দমে এডিক্ট হতে থাকে।

আস্তে আস্তে সে ড্রাগের সমুদ্রে ডুব দে।মাঝে মাঝে ক্লাবেও যেতো।মদ,গাঁজা,ইয়াবা আরো কত কি সেবন করতো।মনে করতো একাকিত্ব এর অবসান ঘটানোর জন্য এটাই বেষ্ট ওয়ে।কাউকে প্যারা দেয়ার চেয়ে এসব খেয়ে একা পড়ে থাকাটা শ্রেয় মনে করতো।বন্ধুগুলো আস্তে আস্তে সরে গেলো,তখন থেকে নিজেই জোগাড় করে নেশা করতো।না পেলে ছটফট করতো,খিটখিটে হয়ে থাকতো।কাউকে বলতেও পারতো না।কিন্তু এই কুল থাকাটাই তার জীবন হটে পরিনত করে দিলো।
.
এসব শুনার পর থেকে ভাবলাম নিতুকে একা রাখা যাবে না,বন্ধু হিসেবে পাশে থেকে সব শুনতে হবে,আর অন্ধকার থেকে আলোতে আনতে হবে।একটু কঠিন কাজ,কারণ পূরানো অভ্যাস ছাড়তে মানুষের সময় লাগে।তবে চেষ্টা থাকলে সফলতা আসে।সেদিন আড্ডার পর থেকে আস্তে আস্তে নিতু নেশা ছাড়তে শুরু করে,যখনি একাকিত্ব অনুভব করে তখনি আমাকে কল করে দেখা করে,আড্ডা দি।মন ভালো করার চেষ্টা করি।

আজ চারমাস হলো আমাদের বন্ধুত্ব।নিতু ও আগে থেকে সুস্থ।মাঝে মাঝে সিগারেট ছাড়া আর কিচ্ছু খায় না,তবে এই কয়েকদিনে তাকে আমার মতো চা খোর বানিয়ে নিয়েছি।এখন দেখা করলে আমার আগে চা অর্ডার করে।নিতুর মা ও এখন বাসায় থাকে,মেয়েকে সময় দে।নিতু ও মন প্রান খুলে মা’র সাথে সময় কাটায়,আর সন্ধ্যা হলে আমারে কল দি প্যারা দে।পুরাই পাগল!!!

বন্ধুত্ব চলছে,নিতু ও আলোতে ফিরে আসছে।একাকিত্ব গ্রাস করছে না,মন প্রান খুলে হাসতে শিখেছে।আন্টি আংকেল এর সাথে আমাকেও পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।ভালোই কাটছে তার সময়।মাঝে মাঝে উদ্ভট প্রশ্ন আর কাজের সম্মুখীন হতে হচ্ছে আমাকে,তাও একটা বন্ধুকে আলোতে আনতে পেরেছে এটাই অনেক।

আমাদের জীবনে বেশি কিছু লাগে না,শুধু পাশে থেকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য মানু্ষ গুলো লাগে।নিজের দুঃখ কষ্ট শেয়ার করার জন্য একটা ভালো বন্ধু থাকলেই হয়।যে কিনা সব শুনবে,পাশে থাকবে।ব্যাস জীবন তো এখানেই সুন্দর।

কয়েকজনের পাল্লায় পড়ে অন্ধকার এ পা দেয়ার চেয়ে একজন কে নিয়ে আলোতে হাটা টা শ্রেয়।আর নিজের মধ্যে চেপে না রেখে শেয়ার করতে জানতে হবে,তবে সেটা সঠিক মানুষের সামনে।তাহলেই জীবন সুন্দর!!!

Facebook Comments Box
SHARE NOW

অন্ধকার থেকে আলোর পথে

Md Sabid Chy

>
Scroll to Top
%d bloggers like this: